
রংপুর মহানগরীর মাছুয়াপাড়া এলাকায় ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে একই পরিবারের চারজনকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহতরা হলেন অবসরপ্রাপ্ত রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী জুয়েল, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী এবং তাঁদের দুই সন্তান।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাতে প্রতিবেশী ভবন দিয়ে ওই পরিবারের বাড়ির ছাদে প্রবেশ করে দুই যুবক ইয়াবা সেবন করছিলেন। বিষয়টি টের পেয়ে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী তাঁদের বাধা দেন এবং ছাদে যাওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় নিজেদের পরিচয় প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
গণপতির চিৎকার ও ধস্তাধস্তির শব্দ শুনে তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী ছাদে গেলে তাকেও হত্যা করা হয়। পরে তাঁদের মেয়ে ও ছেলেকেও হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
শনিবার রাতে বাড়ি থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হলে তালা ভেঙে বাড়ির ভেতর থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গণপতির মরদেহ ছাদে, তাঁর স্ত্রী ও মেয়ের মরদেহ সিঁড়িতে এবং ছেলের মরদেহ ঘরের ভেতর খাটের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালিয়ে মাছুয়াপাড়া এলাকার দুই যুবক—মুগ্ধ ও সিদ্ধার্থকে আটক করেছে। রংপুর মহানগর পুলিশের কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, মাদক সেবনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। মাদককে কেন্দ্র করে এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ, হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত এবং এর পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না—তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
মাদক শুধু একটি পরিবার নয়, পুরো সমাজের জন্য ভয়াবহ হুমকি। মাদকের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
Leave a Reply