মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রাজারহাট সরকারি মীর ইসমাইল হোসেন কলেজে ৩২ পদ ফাঁকা শিক্ষক সংকটে পাঠদান বিপর্যস্ত সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী  সারের সংকটের মধ্যে পীরগঞ্জে গুদামে মজুদকৃত সার উদ্ধার তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে রক্ষায় পরিবার, সমাজ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান চেয়ারম্যানসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা মিঠাপুকুরে পুকুরে ডুবে ৪ বছরের শিশু হাবিবের মৃত্যু ইয়াবা সেবনে বাধা দেওয়ায় রংপুরে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব রংপুর জেলা কমিটি গঠন মানবিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত: রংপুরে মানসিক ভারসাম্যহীন ব্যক্তির পাশে একদল তরুণ রংপুর ট্রাক টার্মিনালে অবৈধ স্থাপনা ও দখলদার উচ্ছেদে সাঁড়াশি অভিযান অসহায় মনছুরা বেগমের পাশে মিঠাপুকুর প্রত্যাশা মানব উন্নয়ন সংস্থা

মিঠাপুকুরে ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানে হামলা, দুই ভাইসহ তিনজন আহতের অভিযোগ

রিপোটারের নাম
  • প্রকাশের সময় : বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • ১১২ বার এই সংবাদটি পড়া হয়েছে

মিঠাপুকুর (রংপুর) প্রতিনিধি:

রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বাজারে ভেটেরিনারি ওষুধের দোকানের বকেয়া টাকা পরিশোধকে কেন্দ্র করে হামলা, মারধর, দোকান ভাঙচুর ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই ভাইসহ কয়েকজন আহত হয়ে মিঠাপুকুর সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় বাদী মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫), পিতা-মো. সমস উদ্দিন, সাং-দেবীপুর, ৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর থানায় অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে—

১. মো. আরিফ মিয়া (৫৫), পিতা-মৃত আমজাদ হোসেন

২. মো. সোহান মিয়া (৩৫), পিতা-মো. আরিফ মিয়া

৩. মো. আশরাফুল ইসলাম (৫০), পিতা-মৃত আমজাদ হোসেন

৪. মোছা. সাজেদা বেগম (৪৫), স্বামী-মো. আরিফ মিয়া

এছাড়া অজ্ঞাতনামা ২/৩ জনকে বিবাদী করা হয়েছে। সকলের ঠিকানা দেবীপুর, ৩নং পায়রাবন্দ ইউনিয়ন, মিঠাপুকুর, রংপুর।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাদীর ভাই মো. আহসান হাবীব রায়হান (৩৪) পায়রাবন্দ বাজারে ভেটেরিনারি ওষুধের দোকান পরিচালনা করেন। ১নং বিবাদী মো. আরিফ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ওই দোকান থেকে ওষুধ বাকিতে ক্রয় করে আসছিলেন। বকেয়া টাকা পরিশোধ না করে পুনরায় বাকিতে ওষুধ নিতে গেলে গত ৫ আগস্ট ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাদীর ভাইয়ের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিষয়টি মীমাংসা করে দিলে বিবাদীরা চলে যান। অভিযোগে আরও বলা হয়,পরে ১১আগস্ট সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে বকেয়া টাকা চাইলে মোবাইল ফোনে গালিগালাজ করার অভিযোগ ওঠে।

এরপর একই দিন সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র—লাঠি, লোহার রড ও ধারালো দা নিয়ে দলবদ্ধভাবে দোকানের সামনে এসে বাদীর ভাইকে উদ্দেশ্য করে গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় মো. সোহান মিয়া ধারালো দা দিয়ে আহসান হাবীব রায়হানের মাথার বাম পাশে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করেন। সাজেদা বেগম তার বাম হাতে কামড় দিয়ে জখম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা মো. মিজানুর রহমান এগিয়ে এলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। আশরাফুল ইসলাম ধারালো ছোরা দিয়ে মিজানুর রহমানের মাথায় আঘাত করেন এবং আরিফ মিয়া লোহার রড দিয়ে তার পিঠে আঘাত করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।

এ সময় হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করে ব্যবসার নগদ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায় এবং দোকানের মালামালসহ একটি কম্পিউটার ভাঙচুর করে আনুমানিক ১ লাখ ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীদের সহযোগিতায় আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মিঠাপুকুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে আহতরা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় সাক্ষী হিসেবে মো. রাশেদ মিয়া (২৫), মো. সুমন মিয়া (৩৭) ও মো. জাহেদুল ইসলাম (৪০)-এর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদী মো. দেলোয়ার হোসেন অভিযোগে বিবাদীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের কাছে আবেদন জানিয়েছেন।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলো তদন্তাধীন; অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে পুলিশের তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

এই সংবাদটি শেয়ার করুনঃ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরির আরো সংবাদ

© All rights reserved © 2026 dainikprottasha.com
Design & Development By BDIX NOC